HomeAll mix newsবাংলাদেশ কি পারবে শিশুশ্রম নির্মূল করতে?

বাংলাদেশ কি পারবে শিশুশ্রম নির্মূল করতে?

বাংলাদেশ কি পারবে শিশুশ্রম নির্মূল করতে?
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) আগামী আট বছরের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছে৷ মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে এক সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক গাই রাইডার এই ঘোষণা দেন৷ কিন্তু বাংলাদেশে সেটা কি সম্ভব হবে?
সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্বের বড় ২৮টি প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকই নিকেল জাতীয় ধাতু উত্তোলনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের ব্যবহার করছে৷ জানা গেছে, বিশ্বের প্রতি ১০ জন শিশুর একজন শিশু শ্রমিক৷ আর তাদের অর্ধেকই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত৷ তবে নব্বই দশকের পর শিশু শ্রমিকদের সংখ্যা ১০ কোটি কমে গেছে৷
আইএলও প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে যে, বিশ্বে ১৫ কোটি ২০ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে৷ তাদের আড়াই কোটি শিশুকেই জোর করে কাজা বাধ্য করা হচ্ছে৷
ব্রিটিশ মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ‘টাইম টু রিচার্জ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বের ২৮টি বড় কোম্পানির অর্ধেকই শিশুদের নিকেল উত্তোলনে ব্যবহার করে৷ তারা জানায়, মাইক্রোসফট অথবা চীনের হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতেও শিশুশ্রম রয়েছে৷
অ্যামনেস্টি জানায়, সাত বছরের শিশুও এমন জোরপূর্বক শ্রমের শিকার৷ নিকেল উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে তারা৷ স্মার্টফোন, গাড়ির ব্যাটারি ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের চাহিদার কারণে সাধারণত নিকেল উত্তোলন করে থাকে তারা৷”
জার্মান গাড়ি শিল্পের বিরুদ্ধেও এই অভিযোগ রয়েছে৷ বিএমডাব্লিউ কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি করলেও, বাকি বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো
শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি৷ মানেনি আন্তর্জাতিক রীতিও৷ ত্রুটি রয়েছে ফল্কসভাগেন ও ডাইমলারের মতো প্রতিষ্ঠানেরও৷ অ্যাপেল, স্যামসাং, সোনির বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ এনেছে অ্যামনেস্টি৷
গাই রাইডার বলেন, শিশুশ্রম কমে যাওয়ার হার সম্প্রতি অনেক ধীর হয়ে গেছে৷ আমরা জানি না ভবিষ্যতে এই শ্রমবাজার কীভাবে পরিবর্তন হবে৷ আমরা কোনো শিশু শ্রমিক চাই না, কোনো আধুনিক দাসত্ব চাই না৷ সম্মেলনে ২০২৫ সালের বন্ধে শিশুশ্রম বন্ধ করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়৷
বাংলাদেশ ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্স (বিবিএস) গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত হিসেবে জানায় বাংলাদেশে এখন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৭ লাখ৷ কিন্তু ২০০১-২০০৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৫ লাখ৷ গত এক দশকে বাংলাদেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে৷
২০০৬ সালে বাংলাদেশ শ্রম আইনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ১৪ বছরের নীচে কোনো শিশুকে কাজে নেয়া যাবে না৷ ১৪ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত কাজে নেওয়া যাবে, তবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নেওয়া যাবে না৷ আর শিশুদের জন্য ৩৮ ধরনের ঝঁকিপূর্ণ কাজে নেয়া নিষিদ্ধ করা হয়৷
তবে বিবিএস-এর জরিপেই বলা হয়েছে, ১৭ লাখ শিশু যারা পূর্ণকালীন শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে তাদের মধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত৷ ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু অপেক্ষাকৃত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত৷ এছাড়া ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে যে শিশুরা সপ্তাহে এক ঘণ্টার বেশি কর্মে নিয়োজিত থাকে, তাদের সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার৷ সব মিলিয়ে দেশে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু কোনো না কোনোভাবে শ্রমের সাথে যুক্ত আছে৷
বাংলাদেশও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন (এসডিজির) লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে শিশু শ্রম দূর করতে চায়৷ কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের প্রস্তুতি যথেষ্ঠ নয় বলে মনে করেন শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শাপলা নীড়-এর অ্যাডভোকেসি অফিসার আতিকা বিনতে বাকি৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতে শিশু শ্রমিক নেই বললেই চলে৷ কিন্তু চামড়া, মোটর গ্যারেজ, ওয়েল্ডিংসহ আরো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে আজও৷”
তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ‘ড্রপ আউট’-এর হার দেখলেই শিশুশ্রমের বাস্তব অবস্থা বোঝা যায়৷ শিশুদের একটা বড় অংশ কাজ করে ‘নন ফরমাল’ গৃহশ্রমিক হিসেবে৷ তাদের প্রকৃত হিসাব কারুর কাছে নেই৷ ফলে প্রকৃত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি হবে৷ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে গৃহশ্রমিক হিসেবে শিশুদের নিয়োগ বন্ধের পরিকল্পনা করেছে৷ ২০১৫ সালে শিশুশ্রম বন্ধে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে৷ কিন্তু তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ এখনো নেয়া হয়নি৷ ২০১৮ সালে কিছু প্রকল্প আসছে৷ তখন থেকে হয়ত শিশুশ্রম কমবে৷”
তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘শিশুশ্রম কমছে৷ তবে বিবিএস যে বলছে, এখন শিশু শ্রমিক ১৭ লাখ তা কীসের ভিত্তিতে বলছে তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়৷”
ওদিকে শিশু অধিকার ফোরামের প্রধান এমরানুল হক চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘বাংলাদেশে এখন ১২ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত৷ ২০২১ সালের মধ্যে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের বাইরে নিতে হবে৷ ২০২৫ সালে দেশে শিশু শ্রমিক থাকবে না৷ কিন্তু সেটা বাস্তবায়নে যথেষ্ঠ উদ্যোগ নেই৷ ফলে আমি লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সন্দিহান৷ এ জন্য বাজেট এবং প্রকল্পও নেই৷ নেই শিশুদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয়৷”

1 month ago (12:57 pm)
Report

About Author (260)

Author

This author may not interusted to share anything with others

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts

[show_theme_switch_link]