HomeAll mix newsচীন সফরে যাবেন সু চি

চীন সফরে যাবেন সু চি

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্বজুড়ে সালোচনার মধ্যে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি শিগগিরই চীন সফরে যাচ্ছেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব গণমাধ্যম একথা জানিয়েছে।
‘দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার’ পত্রিকার খবরে বলা হয়, বেইজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টি অব চীন-আয়োজিত বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদের এক ফোরাম বৈঠকে যোগ দিতে শিগগিরই সেখানে যাচ্ছেন সু চি।
এ বিষয়ে জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে সু চির মুখপাত্র জাউ হাতাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
তবে চীনের সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার খবর অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর ওই বৈঠক শুরুর কথা রয়েছে, চলবে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
‘সন্ত্রাস দমনের’ নামে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন সু চি ও তার সরকার।
এ পরিস্থিতিতে উত্তরের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ চীনকে কাছে টানতেই মিয়ানমারের নেত্রীর কাছে এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে গত ২৪ নভেম্বর বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হাইং। ফেইসবুকে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে দাবি করেন হাইং।
গত অগাস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধন শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হলে তখন থেকেই মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে আসছে চীন। এ সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উঠলে তাও চীন আটকে দেয়।
মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনই দেশটির সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী, তাদের মিয়ানমারে বিপুল বিনিয়োগও রয়েছে।
রাখাইনে দমন-পীড়নের মুখে গত তিন মাসে সোয়া ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সংকটের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিষয়ে সোচ্চার রয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন-নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধনের’ চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ।
গত সপ্তাহে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গা সংকটের দ্বিপক্ষীয় সমাধানের পথ খুঁজে বের করার কথা বলেন।
সপ্তাহের শেষে মিয়ানমার সফরে গিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে একটি সম্মতিপত্রে সাক্ষর করেন।
ওই চুক্তি অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ ঘোষণার আলোকে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের শরণার্থীদের ফেরত নেবে দেশটির সরকার।
প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলকে সম্পৃক্ত করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমার তাতে রাজি হয়নি।
ওদিকে, রোমান ক্যাথলিকদের ধর্মীগুরু পোপ ফ্রান্সিস সোমবার মিয়ানমার পৌঁছেছেন। স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নজর এখন মিয়ানমারের দিকে। মিয়ানমার থেকে পোপ বাংলাদেশ সফর করবেন।
মিয়ানমার সরকার রাখাইনের সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিজেদের নাগরিক বলেই স্বীকার করে না এবং তাদের সঙ্গে যে বিভেদমূলক আচরণ করা হয় তা নিয়ে অতীতে সরব হয়েছেন পোপ।
সেখানে সফরে গিয়েও যদি পোপ একই ধরণের মন্তব্য করেন তবে তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের।
বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারের অনেক নাগরিক এমনকি রাখাইনের মুসলিম সম্প্রদায়কে ‘রোহ্ঙ্গিা’ নামে ডাকতেও রাজি নয়। বরং তারা ‘বাঙ্গালি’ বলতে চায়। তাদের যুক্তি, প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকেও মুসলিমরা রাখাইনে গেছে।

3 weeks ago (8:08 am)
Report

About Author (22)

Author

জম্ম সৃষ্টির লক্ষ্যে

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts

[show_theme_switch_link]